‘৫০টি বুথের জন্য আড়াই লক্ষ টাকার মদ, ৫০টি  পিস্তল লাগবে’, স্টিং ভিডিওতে বললে সন্দেশখালির ২নম্বর ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি গঙ্গাধর

আগেরটির মতো এই ভিডিওটিরও সত্যতা City Next যাচাই করেনি। এই ভিডিওতেও সন্দেশখালির দু’নম্বর ব্লকে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সেই গঙ্গাধর কয়ালকেই দেখা গেল। ৪৬ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর শুরুতেই, সন্দেশখালিতে যে মহিলারা আন্দোলন করেছিলেন তাঁদের আর্থিক সাহায্য করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে ‘গঙ্গাধরকে’।  স্টিং ভিডিয়োতে গঙ্গাধর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিয়ে জানিয়েছেন যে, প্রতি বুথের জন্য পাঁচ হাজার টাকার মদের প্রয়োজন। তিনটি অঞ্চলে ৫০টি বুথ রয়েছে। বিজেপি নেতার হিসাবে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার মদের প্রয়োজন। কোন বুথে মদের বেশি প্রয়োজন, তা-ও জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে ৫০টি পিস্তলের দাবিও করেছেন গঙ্গাধর। শনিবার রাতে প্রকাশ্যে আসে ‘সন্দেশখালির স্টিং অপারেশন’-এর দ্বিতীয় পর্ব। সেখানেও প্রথম ভিডিয়োর মতো গঙ্গাধরকেই কথা বলতে শোনা যায়। দ্বিতীয় ভিডিয়ো, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, সন্দেশখালিতে যে মহিলারা আন্দোলন করেছিলেন, তাঁদের আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। এর পর তিনি জানান, ভোট করাতে গেলে ঠিক কী কী প্রয়োজন।প্রশ্নকর্তা জিজ্ঞেস করেছেন, ভোট পর্যন্ত গঙ্গাধরের কত পরিমাণ মদ লাগবে? জবাবে গঙ্গাধর বলেন, ‘‘আদিবাসী এলাকায় বেশি লাগে। তফসিলি এলাকায় একটু কম। তিনটে অঞ্চলে প্রায় ৫০টি বুথ রয়েছে। সন্দেশখালিতে ১০টি বুথ রয়েছে। সেখানে বেশি মদ লাগবে। এখানে তফসিলি উপজাতি বেশি। মুসলিমরা সংখ্যায় ৩০০ জনের মতো।’’ এর পরেই প্রশ্নকর্তা জিজ্ঞেস করেন, ভোট পর্যন্ত গঙ্গাধরের মণ্ডলে কত খরচ লাগবে? গঙ্গাধর প্রথমে জানান, তাঁর এই বিষয়ে সঠিক ধারণা নেই। তখন প্রশ্নকর্তা জানান, এখন থেকে ‘বাজেট’ না করলে শেষ মুহূর্তে সামলে ওঠা যাবে না। তখন গঙ্গাধর বলেন, ‘‘তা-ও বুথ প্রতি ৫ হাজার করে ধরুন।’’ অর্থাৎ ৫০টি বুথে খরচ পড়বে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। গঙ্গাধরের হিসাবে, এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মহিলা এবং ৭০ শতাংশ পুরুষ মদ্যপান করবেন। প্রশ্নকর্তা জিজ্ঞেস করেন, এর মধ্যে কি আন্দোলনকারী মহিলারাও রয়েছেন? জবাবে গঙ্গাধর বলেন, ‘‘আন্দোলনকারী মহিলারা তো সকলে মদ্যপান করে না।’’ যিনি প্রশ্ন করছেন, তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘যারা খাচ্ছে, তারাও আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকবেন তো? খরচও ওর মধ্যেই ধরা হচ্ছে তো?’’ জবাবে গঙ্গাধর বলেন, ‘‘হ্যাঁ, তারা থাকবেই। তবে আলাদা আলাদা। পুলিশের সামনে তারা আসবে না। পুরুষেরা পিছন থেকে সাহায্য করবে।’’ তিনি ভোটের জয়ের বিষয়ে নিশ্চয়তাও দিয়েছেন প্রশ্নকর্তাকে। তাঁর কথায়, ‘‘পাঁচ হাজার টাকাটা অনেক কম বলেছি আপনাকে। সবাইকে বলেছি, অন্তত প্রথম লোকসভাটা জেতাও। পরে বিধানসভার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা। আপনারা রয়েছেন যখন, তখন আমার একটু সুবিধা হয়ে যাবে।’’

error: Content is protected !!